ধর্মরাজিক উচ্চ বিদ্যালয়ের পটভূমি
৭১ এর যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশের শহীদ-সন্তান,দুঃস্থ এবং গরীব ছেলেদের আশ্রয়,খাদ্য ও চিকিৎসা সেবা দানের সাথে সাথে তাদের শিক্ষা প্রদানের মহতী লক্ষ্যে ধর্মরাজিক উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে হাঁটি-হাঁটি পা-পা করে বর্তমানে ঢাকা মহানগরীর সবুজবাগ থানায় একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে শিক্ষা বিস্তারে বিশেষ ভূমিকা বেখে চলেছে এই প্রতিষ্ঠান। তাই এতদ্অঞ্চলের ছাত্র-ছাত্রী ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে আগত গরীব এবং মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের উল্লেখযোগ্য সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে চলেছে।যুগের চাহিদা এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে সর্বস্তরের ছেলে/মেয়েদের লেখা পড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সহপাঠক্রমিক কার্যাবলীও পরিচালিত হচ্ছে। ঢাকা মহানগরীতে এই বিদ্যালয়টিকে একটি মডেল শিক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মাননীয় সংঘনায়ক শুদ্ধানন্দ মহাথের’র নেতৃত্বে ম্যানেজিং কমিটির সুদক্ষ পরিচালনা কৌশল অভিনব ও প্রশংসনীয়।সরকারি বিধি মোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ ও দেশ-বিদেশে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা মন্ডলীছাড়াও ম্যানেজিং কমিটির উদ্যোগে প্রাতিষ্ঠানিক বেতনে আরো দক্ষ বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ দানের মাধ্যমে যুগোপযোগী পাঠদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে নবতর উদ্যোমে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যাবলী পরিচালিত হচ্ছে। ফলে পিইসি, জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় GPA-5 সহ পাসের হার হয়েছে শতভাগের কাছাকাছি।
পাঠদান কার্যক্রম : সপ্তাহের ১ম কার্য দিবসে জুনিয়র ওয়ান – ২য় শ্রেণি পর্যন্ত ডায়েরিতে সাপ্তাহিক পাঠ পরিকল্পনা লগিয়ে দেয়া হয়। জুনিয়র ওয়ান – ২য় শ্রেণির বিষয় শিক্ষক শ্রেণিতে H/W প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে লিখে দেন। বিষয় শিক্ষক বোর্ডে C/W যা করান তা শিক্ষার্থীরা H/W খাতায় লিখে নেবে। উক্ত খাতা বিষয় শিক্ষক তার তত্ত্বাবধানে সংরক্ষণ করেন এবং কোন ভুলত্রুটি আছে কিনা তা যাচাই করে সাময়িক পরীক্ষার আগে তা শিক্ষার্থীদের প্রদান করেন এবং পরীক্ষার আগে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো উত্তরসহ সীট আকারে প্রদান করা হয়।
৩য়-৮ম শ্রেণিতে প্রত্যেক বিষয়ের আলাদা H/W খাতা থাকে। প্রত্যেক পরীক্ষায় H/W খাতা বিষয় সহায়িকা খাতা হিসেবে গণ্য হয়। বিষয় শিক্ষক H/W খাতা যাচাই করে নম্বর দেন। ৩য় শ্রেণিতে সাময়িক পরীক্ষার আগের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো উত্তরসহ সীট আকারে প্রদান করা হয়।
৯ম-১০ম শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের বক্তিতা পদ্ধতি, ডিজিটাল কনটেইন দলগত কাজ, চিত্র, চার্ট প্রভৃতি অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতিতে পাঠদান করা হয়। ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রত্যেক বিষয় ৩০ নম্বরের এস.বি.এ পদ্ধতি চালু রয়েছে ।
সমাবেশ: ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে শৃংখলাবোধ ও নিয়মানুবর্তিতার অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রতিদিন ক্লাস বসার ১৫ মিনিট আগে সমাবেশ অনুুষ্ঠিত হয়। প্রধান শিক্ষক ও আন্যান্য শিক্ষকগণ সমাবেশে উপস্থিত থাকেন।
ড্রেস:
বালকদের: সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট,সাদা জুতা,মোজা,কালো বেল্ট।
বালিকাদের: সবুজ রং এর কামিজ, সাদা স্যালোয়ার,সাদা ওড়না,সাদা জুতা ও মোজা।
কার্যনির্বাহী কমিটি : বিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে গতিশীল,স্বচ্ছ ও ফলপ্রসূ করতে হলে বিকেন্দ্রীকরণ প্রক্রিয়ার কোন বিকল্প নেই। দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তির উপর দায়িত্ব ও ক্ষমতা বন্টনের ফলে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ নিজ নিজ দায়িত্বের ব্যাপারে অত্যন্ত আন্তরিক ও শ্রদ্ধাশীল থাকে। এই প্রক্রিয়ায় পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি পায়। এজন্য দক্ষতা ও জ্যেষ্ঠতার বিচারে ৫-৯ জন সদস্য বিশিষ্ট বিভিন্ন কমিটি গঠন করা হয়।
দৈনিক পাঠের বিবরণী : বছরের শুরুতেই প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাতে দৈনিক পাঠের বিবরণী (ডায়েরী) তুলে দেয়া হয়। এই ডায়েরীতে শিক্ষার্থী তার দৈনিক পাঠের বিবরণী লিখে থাকে। এর মাধ্যমে শ্রেণিতে শিক্ষকের পাঠদানের বিষয়াদি ও হোম ওয়ার্ক অভিভাবকেরা জ্ঞাত হতে পারে। এতে শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যালয়ের আইন-শৃঙ্খলা বিষয়গুলো লিপিবদ্ধ থাকে।
পরিচয় পত্র: বিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষার্থীর আই.ডি নম্বর রয়েছে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে তার নিজ নাম, শ্রেণি, শাখা, রোল ও আই.ডি নম্বর সম্বলিত পরিচয় পত্র দেয়া হয়। বিদ্যালয়ে অবস্থান পর্যন্ত প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে আই.ডি কার্ড সংগে রাখতে হয়।
কম্পিউটার ল্যাব/আই.টি ল্যাব: বর্তমান যুগ কম্পিউটারের যুগ। তাই কম্পিউটার শিক্ষাকে বাদ দিয়ে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলা সম্ভব নয়। একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলর জন্য আমাদের দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে হবে। এজন্যে প্রতিটি বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত আই,সি,টি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ লক্ষ্যকে বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে প্রধান শিক্ষকের উদ্যোগে বিদ্যালয়ে ১টি সুসজ্জিত কম্পিউটার ল্যাব তৈরি করা হয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা ল্যাবে শিক্ষার্থীদের আই,সি,টি ক্লাস নিয়ে থাকে।
মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম : শিক্ষাকে আরো আধুনিক,যুগোপযোগী ও বাস্তবমুখী করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রতিটি বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের মাধ্যমে পাঠদানের কথা বলা হয়েছে। প্রত্যেক শিক্ষক যাতে কন্টেন্ট তৈরি এবং সফলভাবে পাঠদান করতে পারে এজন্যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক দ্বারা ইন হাউজ ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করা হয়।
খেলাধুলা: “সুস্থ দেহে সুন্দর মন” একটি কর্র্মঠ জাতি গড়ে উঠার প্রথম শর্ত হলো সুসাস্থের অধিকারী জনগোষ্ঠী। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ ও ভ্রাতৃত্ব জাগ্রত করা,নেতৃত্বের গুণাবলির বিকাশ ঘটালে, সর্বোপরি দেহ ও মনকে সুস্থ রাখার জন্য খেলাধুলার বিকল্প নেই। এজন্য বিদ্যালয়ে প্রতি বছর বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সংস্কৃতি : শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে লেখাপড়ার পাশাপাশি সংস্কৃতিচর্চা অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে প্রতি বছরই বিদ্যালয়ে নাটক, গান, নাচ, আবৃত্তি, সংগীত ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
বিজ্ঞানাগার : ‘প্রায়োগিক শিক্ষাই প্রকৃত শিক্ষা’ শিক্ষার্থীরা যাতে তত্ত¡গত জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞানের মাধমে হাতে কলমে বিজ্ঞানচর্চা করতে পারে সেজন্য বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য দুটি ব্যবহারিক কক্ষ রয়েছে। ব্যবহারিক জ্ঞানকে আরো সমৃদ্ধ করার জন্য বর্তমান প্রধান শিক্ষক বিজ্ঞানাগারের আসবাবপত্র,গ্যাস,বিদ্যুৎ ও রাসায়নিক দ্রব্যাদিসহ আনুসাঙ্গিক যন্ত্রপাতি বৃদ্ধি করে একটি পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞানাগারে রূপান্তরিত করেছেন।
স্কাউট: নৈতিক উন্নতি সাধন,নেতৃত্বের গুণাবলির বিকাশ, দেশসেবা,দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করা, পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সহযোগিতার মনোভাব তৈরি করা,দেশের উন্নয়ন ও বিভিন্ন জাতীয় বিপর্যয়ে মোকাবেলা করা, বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার লক্ষ্যে দেশের দ্বিতীয় সারির প্রতিরোধ বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে এইসব স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করা হয়েছে।
শিক্ষাসফর : শিক্ষার্থীদের পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি বাস্তব জ্ঞানার্জন ও বিনোদন লাভের জন্য প্রতিবছর শিক্ষা সফরে যাওয়া হয়।
ল্যাংগুয়েজ ক্লাব ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা: ভাষাকে সুন্দর করে বলা,সুন্দর বাচনভঙ্গি, শব্দচয়ন, ও প্রয়োগ করা শেখানো এবং শিক্ষার্থীদের সুবক্তা হিসেবে গড়ে তোলার জন্যে বিদ্যালয়ে ল্যাংগুয়েজ ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিশেষ করে ইংরেজিতে আরো Fluent হওয়ার জন্যে এখানে শিক্ষার্থীদের listening , speaking, practice করানো হয় Conversation practice এর মাধ্যমে।
সততা স্টোর: শিক্ষার্থীদের মাঝে সততার মনোভাব গড়ে তোলার জন্যে বিদ্যালয়ে সততা ষ্টোর চালু করা হয়েছে। বিক্রেতাবিহীন সততা ষ্টোরে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে মূল্য তালিকায় উল্লেখিত দাম বক্সে ফেলে মূল্য পরিশোধ করে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যৌথ উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ সপ্তাহ পালন করা হয়।
ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা: বিদ্যালয়ের সার্বিক কর্মকাÐ সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করার জন্যে সমগ্র বিদ্যালয়টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।